জাপানের অটো জায়ান্ট নিশান ও হোন্ডা একীভূতকরণের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এ আলোচনা সফল হলে কোম্পানি দুটির একত্রিত বাজারমূল্য দাঁড়াবে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার। তবে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, কোনো খসড়া সিদ্ধান্তও হয়নি। খবর এফটি।
গাড়ি শিল্পের সাম্প্রতিক প্রবণতায় সামনের সারিতে রয়েছে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি), যা বৈশ্বিক অটো শিল্পকে নতুন রূপ দিচ্ছে। এতে অগ্রগণ্য অবস্থান চীনা নির্মাতা ও মার্কিন টেসলার মতো কোম্পানির। এসব কোম্পানির সঙ্গে প্রযুক্তি রূপান্তরের মাধ্যমে পাল্লা দিতে সাহায্য করবে, এমন প্রত্যাশা থেকেই একীভূতকরণের চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে নিশান ও হোন্ডা। এ খবর প্রকাশের পর টোকিও পুঁজিবাজারে নিশানের শেয়ারদর ২২ শতাংশ বেড়েছে। উল্টোদিকে হোন্ডার শেয়ারদর কমেছে ৩ শতাংশ।
গাড়ি শিল্পের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একীভূত হলে কোম্পানি দুটির উৎপাদন খরচ কমবে। তাদের গবেষণা ও প্রযুক্তি বিকাশের সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে। তবে একীভূতকরণের ফলে কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে, যা জাপানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিশান বর্তমানে আর্থিক সংকটে রয়েছে। ২০২৩ সালের শুরু থেকে তাদের শেয়ারমূল্য ৪০ শতাংশ কমেছে। কোম্পানির বর্তমান বাজারমূল্য ৮২০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে হোন্ডার বাজারমূল্য ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। একত্রিত হলে এ দুটি প্রতিষ্ঠান গত বছরের বিক্রি পরিসংখ্যান অনুসারে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা হবে। টয়োটা ও ফক্সওয়াগনের পরেই হবে তাদের অবস্থান।
নিশান ও হোন্ডা এর আগেও একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছিল। মার্চে তারা যৌথভাবে ইভির সফটওয়্যার বিকাশের ঘোষণা দিয়েছিল। বর্তমানে দুই জায়ান্ট ২০৩০ সাল নাগাদ একটি যৌথ ইভি আনতে কাজ করছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর গাড়ি শিল্পে সম্ভাব্য পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে আলোচনার গতি আরো বাড়িয়েছে নিশান ও হোন্ডা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিশান ও হোন্ডার ব্যবসায়িক কাঠামো এবং করপোরেট সংস্কৃতির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে, যা একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
গত আগস্টে কোম্পানি দুটি ঘোষণা করেছিল তারা এ দশকের শেষ নাগাদ যৌথ ইভি প্লাটফর্ম চালু করবে। এছাড়া এ একীভূতকরণ উভয় প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করবে।
জাপান সরকার ২০২০ সালে নিশান ও হোন্ডাকে একীভূতকরণের প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই সময় আশঙ্কা ছিল জাপানি গাড়ি নির্মাতারা একা চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে ইভি ও সফটওয়্যার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। প্রতিযোগিতা করতে হলে দেশীয় গাড়ি নির্মাতাদের একত্রিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে নিশানের দীর্ঘদিনের অংশীদার রেনোঁ এ আলোচনায় সরাসরি যুক্ত হয়নি। তবে রেনোঁর মালিকানার কিছু অংশ হোন্ডার কাছে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
নিশান ও হোন্ডা যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাব্য দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করছে। গত মার্চের ঘোষণার মতো ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছে। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হলে অংশীদারদের যথাসময়ে জানানো হবে। অন্যদিকে রেনোঁ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একীভূতকরণ প্রচেষ্টাটি সফল হলে এটি জাপানি গাড়ি শিল্পে বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। নিশান-হোন্ডা যৌথভাবে বিশ্বব্যাপী তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এটি বার্ষিক ৮০ লাখ গাড়ি উৎপাদনসক্ষমতা অর্জন করবে, যা প্রতিযোগিতায় অনেক এগিয়ে দেবে। এখন একীভূতকরণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ভিন্ন করপোরেট সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থান কৌশল।